উদ্ধার করা ইয়াবা ২০টি কাটে রাখা ছিল, আটক করা যায়নি কাউকে

নাইক্ষ্যংছড়িতে ২ লাখ ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ধাওয়া খেয়ে জঙ্গলে পালাল চোরাকারবারিরা

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:৪৪ , আপডেট: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:৪৪

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি;

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ২ লাখ ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন চোরাকারবারি একটি বস্তা ফেলে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়কের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত পিলার ৪৮/৪ এস ও শূন্যলাইন থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি-তোন্দুলেরমুখ এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে বিজিবির টহলদল কয়েকজন চোরাকারবারিকে সেখানে অবস্থান করতে দেখে। পরে তাদের থামার নির্দেশ দেওয়া হলে চোরাকারবারিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে তারা সঙ্গে থাকা একটি বস্তা ফেলে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরে বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা বস্তাটি জব্দ করে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে বস্তার ভেতর থেকে ২০টি কাটে রাখা বিপুল পরিমাণ বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবার পরিমাণ ২ লাখ ১০০ পিস।

জব্দ করা মাদক আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য দেশের অভ্যন্তরে পাচারের চেষ্টা করে আসছে। এসব অপতৎপরতা রোধে সীমান্তে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। সীমান্তকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

সীমান্ত এলাকায় একের পর এক বড় চালানের ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তের দুর্গম পথ ব্যবহার করে মাদক কারবারিরা দেশের অভ্যন্তরে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।